শনিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১৩

সাদাকালো


সাদাকালো কিছু দেওয়াল লিখন
রঙিন শহর-গ্রামে
সাদাকালো কিছু বিষ ছুঁড়ে যায়
অচেতন কিছু নামে।
সাদা আয়নায় কালো মুখ
আজ
ঝলসে ওঠার ঝাঁজে
সাদাকালো কিছু আগুন
ছড়ায়
বোবা চিৎকারে বাজে।

আয়, রক্ত শুকিয়ে আয়
সাদাকালো চোখে
আজও বুক ধুঁকে
রঙ শুষে খেতে আয়।

ছায়ার মাঝে কাছাকাছি থাকে
অন্ধকারের ডাক।
সাদাকালো ভিড়ে,
ভাড়া করা নীড়ে
অশ্লীল ঘুরপাক।
কফিতে, ক্যাফেতে
ক্ল্যাসিকে, র‍্যাপেতে
তুই সাদাকালো হয়ে থাক।
বিষাক্ত ঠোঁটে তবু আমার চুমুক
জাপ্টে লাগিয়ে রাখ।

হায় গলা শুকিয়ে যায়
ভেজা কথাগুলো লাহু মেখে থাকে
রঙ শুষে খেতে আয়।


আসছে যুদ্ধ নগর কথন,
রঙিন ছেঁড়া খামে।
সাদাকালো হতে বেশি দেরি নেই
নস্টালজিক দামে।
কালো পর্দায় সাদামুখধারী
কিছু ঘৃণ্য মুখের সারি।
যারা আজও আশা কিনে যাস
ফিরে আয় তাড়াতাড়ি।

রক্তে রক্তে সংঘাতে ফের
সূর্য ডুবতে চায়,
আকাশ বেড়ার সীমানা বেড়ে ওঠে,
রাত বাড়ে অবেলায়।

একদিন সবটুকু রঙ আমার
শহর নিঙড়ে খাবে।
সাদাকালো সেই স্মৃতি-ডাস্টবিনে
আলো এঁটো হয়ে যাবে।

যুদ্ধে ফেরার ডাক এসেছে
আয় মৃত্যু
যে পেছন ফিরে না দাঁড়ায়
আয় সাদাকালো স্বপ্ন বুনবো না
যারা গল্পের প্রতীক্ষায়
ধূপ হয়ে উড়ে যায়।।



শনিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

শহর

জলতরঙ্গের রঙে,
শহর ছুটছে নিচে......
শিরায় শিরায় আলো বুক চিরে
এই শহর ফেলে পিছে।

প্রতিধ্বনিত কণ্ঠ যেখানে জল ধরতে যাবে,
পরতে পাড়াতে জরাতে খরাতে.........
প্রাণ শুঁকতে পাবে।
শহর তুমি তিলোত্তমা,
শহর তুমি খল.........
শহর তোমার পাঁজর জুড়ে
চোখের নোনা জল।
শহর তুমি ধর্ষিতা,
শহর তুমি মা,
শহর আছো বলেই,
কাঁদতে পারছি না।

রোদ পড়ে গেলে শহর থেকে,
এই আলোরা মুছে যায়,
বিবর্ণ মুখোশের পিছে
পশুরা এসে দাঁড়ায়,
জননীর জঠরের শেষ নিশ্বাস,
প্রাগৈতিহাসিক যুগে......
নিষিদ্ধ আধুনিক অস্তিত্ব 
অমনুষ্যত্বে ভুগে।

শহর তুমি চোখ বুজলেই,
হতে পারতো মিছিল.........

শহর তুমি ঘুমাও বলেই চিল শকুনিরা জাগে
শহর তুমি থামাও বলেই চক্ষে ধাঁধা লাগে।
শহর একবার মাটিতে নেমে এসো,
শুইয়ে রাখা ভিখিরির মতন
আমায় ভালোবেসো।

জলতরঙ্গের রঙে,
শহর ছুটছে নিচে......
শিরায় শিরায় আলো বুক চিরে
এই শহর ফেলে পিছে।

চাইলেই পারতে হতে,
লাল, নীল, সবুজ।
পারতেই করতে হয়তো আমায়
অমাবস্যায় খোঁজ।

শহর তুমি তিলোত্তমা,
শহর তুমি খল.........
শহর তোমার পাঁজর জুড়ে
চোখের নোনা জল।
শহর তুমি ধর্ষিতা,
শহর তুমি মা,
শহর আছো বলেই,
হাঁটতে পারছি না।

শুক্রবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

স্বপ্নচারী মেঘ দিও

স্বপ্নচারী মেঘ দিও।
তপ্ত দুপুর বেলা।
দিও মিসকলে,
কোন ছলে
প্রেমিকার ছোঁয়া,
আকাশভরা ফড়িং
দিও ভর সন্ধ্যেবেলা।

গোপন করে আমি থাকি,
সূর্যের নীল রঙ।
বুকপকেটে গুঁজে রাখি,
প্রেমিক সাজার ঢঙ
গোলাপের পাঁপড়িতে,
তবু হাওয়ার খেলা চলে
কাজলের কালিতে,
কার চোখ যে কথা বলে
দিও একটা ছোট্ট সবুজ মিটমিটানো আলো,
ভালো হলে মন্দ বলো,
মন্দ হলে ভালো।
মুক্তধারার গান দিও
দিও নিয়ন রাতের কালো,
জলে ভরা শিশির দিও,
যখন ভোরের বেলা।


গরিব হলেও স্বপ্নগুলো মোটেও
ফালতু নয়,
ভাবতে ভাবতে শিখেই গেছি কেউ তো,
সুখী নয়।
তাই তো চোখে কবিতা লিখেও
কোনো রকমে আছি,
স্বপ্ন লিখি, স্বপ্ন দেখাই,
মরতে মরতে বাঁচি।
একমুঠো না হয় রোদই দিও,
তবু চাইছি তোমার কাছে,
আমায় বললে কথা দিতে পারি
হরেক রকম ধাঁচে।
জানি আমি সখা কিছুই পারিনা,
মিথ্যে বড়াই মেলা,
ভালোবাসার ঠাঁই যেন পাই
আসবো ঐ বেলা।


তাই,
স্বপ্নচারী মেঘ দিও।
তপ্ত দুপুর বেলা।
দিও মিসকলে,
কোন ছলে
প্রেমিকার ছোঁয়া,
আকাশভরা ফড়িং

দিও ভর সন্ধ্যেবেলা।